থেমে থাকবে না নারী (মাসিক স্বাস্থ্যবিধি)

 

প্রতি চন্দ্রমাস পরপর হরমোনের প্রভাবে পরিণত মেয়েদের জরায়ু চক্রাকারে যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত অংশ যোনিপথে বের হয়ে আসে তাকেই মেয়েদের মাসিক বা ঋতুচক্র বলে। মেয়েদের মাসিক এর তিনটি অংশ, ১মটি চারদিন স্থায়ী হয় (৪-৭ দিন) এবং একে মিনস্ট্রাল ফেজ, ২য়টি ১০দিন (৮-১০ দিন) একে প্রলিফারেটিভ ফেজ এবং ৩য়টি ১৪ দিন (১০-১৪ দিন) স্থায়ী হয় একে সেক্রেটরি ফেজ বলা হয়। মিনস্ট্রাল ফেজ এই যোনি পথে রক্ত বের হয়। ৪-৭ দিন স্থায়ী এই রক্তপাতে ভেঙ্গে যাওয়া রক্তকণিকা ছাড়াও এর সাথে শ্বেত কণিকা, জরায়ুমুখের মিউকাস, জরায়ুর নিঃসৃত আবরনি, ব্যাকটেরিয়া, প্লাজমিন, প্রস্টাগ্লানডিন এবং অভিষিক্ত ডিম্বানু থেকে থাকে। ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন হরমোনের যৌথ ক্রিয়ায় মেয়েদের মাসিক এর এই পর্বটি ঘটে। প্রলিফারেটিভ ফেজ ৮-১০ দিন স্থায়ী হতে পারে। শুধু ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে এটি হয়। এই সময় জরায়ু নিষিক্ত ডিম্বানুকে গ্রহণ করার জন্য প্রস্ততি নেয়। মেয়েদের মাসিক এর সেক্রেটরি ফেজ সবচেয়ে দীর্ঘ, প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিন। একে প্রজেস্টেরন বা লুটিয়াল ফেজ ও বলা হয়। এটিও ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন উভয় হরমোনের যৌথ কারণে হয়। এই সময় নিষিক্ত ডিম্বানুর বৃদ্ধির জন্য জরায়ু সর্বোচ্চ প্রস্ততি নিয়ে থাকে।

 

 

মাসিক এখন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যা নিয়ে জানা আছে সকলেরই। এতে লজ্জার কিছু নেই। তবে এই সমস্যার কারণে প্রচুর পরিমাণে ভুগতে থাকে অনেক নারীকে। এই সময়ে অনেক মেয়েদের স্কুলে যাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হয়। এই ক্ষেত্রে পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। এইস্বরূপ কিছু করণীয় আলোচনা করা হল নিম্নেঃ

 

  • মাসিক বা ঋতুস্রাব বিষয় সম্পর্কে মা-বাবার উচিত মেয়েকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা এবং মাসিক চলাকালীন মেয়েকে মা-বাবার সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

 


  • নারী শরীর বিকাশের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলো মাসিক বা ঋতুস্রাব। কোন কুসংস্কারে আবদ্ধ হয়ে মেয়েদের কষ্ট দেয়া যাবে না। এ সময় তার বিছানা আলাদা করার কোন প্রয়োজন নেই।
  • নারী শরীরের এই স্বাভাবিক বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষিকাদেরও উচিত বিষয়টি যথাযথ আলোচনা করা এবং মানসিক সমর্থন দেয়া জরুরী।

 


  • অনাকাঙ্ক্ষিত রোগ জীবাণুর সংক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাসিকের সময় কোন অবস্থাতেই ময়লা,ছেঁড়া কাপড় ব্যবহার না করা।
  • মাসিকের সময় পরিষ্কার কাপড় অথবা সম্ভব হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন/প্যাড ব্যবহার করা যা স্বাস্থ্যসম্মত।

 


  • মাসিক চলাকালীন ব্যবহৃত কাপড় নোংরা পানিতে ধুলে রোগ জীবাণুর সংক্রমণের ভয় থাকে।
  • রোগ জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নিরাপদ পানি, সাবান, প্রয়োজনে ডেটল বা স্যাভলন দিয়ে মাসিক চলাকালীন ব্যবহৃত কাপড় পরিষ্কার করা।

 


  • ছায়াযুক্ত স্থানে অথবা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় মাসিক চলাকালীন ব্যবহৃত কাপড় শুকাতে দিলে ছত্রাক বা অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণের ভয় থাকে।
  • রোগ জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পরিষ্কার জায়গায় মাসিকের ব্যবহৃত কাপড় সংরক্ষণ করা।
  • মাসিক চলাকালীন শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যায়। তাই একটু বাড়তি খাদ্য না হলে তা শরীরেকে আরও বেশি দূর্বল করে দেয়। পাশাপাশি মেয়েকে আলাদাভাবে খেতে দেয়া কখনই উচিত নয় কারণ সে মানসিকভাবে কষ্ট পেতে পারে।

 


  • পরিবারের মেয়েদের উচিত মাসিক চলাকালীন তার মেয়ে সন্তানকে খাদ্য তালিকায় একটু বাড়তি খাদ্য দেয়া যা তার শরীর বিকাশে সহায়ক হয় এবং সে যেন অপুষ্টিতে না ভুগে।
  • মাসিকে ব্যবহৃত কাপড় যেখানে সেখানে ফেললে তা পরিবেশদূষণ করে। তাই যথাযথ ভাবে তা পরিষ্কার করুন।
  • পরিবেশদূষণ এড়াতে নির্দিষ্ট জায়গায় অন্যান্য ময়লা আবর্জনার সাথে মাসিকে ব্যবহৃত কাপড়/প্যাড/স্যানিটারি ন্যাপকিন ফেলতে হয়।

 

আশা করি আমাদের ছোট প্রচেষ্টা আপনাদের মাসিক চলাকালীন সময়ে আপনাদের সহযোগিতায় আসবে। সঠিক পদ্ধতিগুল অনুসরণ করে আপনার জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলুন।

 

 

0 Reviews

Add Your Reviews

Rating